
সরকারি এমপিও নীতিমালা ও সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের নির্দেশনা অমান্য করে একই সঙ্গে দুটি লাভজনক পদে বহাল থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পেশ ইমাম মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর নিয়োগে বিধি বহির্ভূত পরীক্ষক, ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ এবং ফলাফলের নথিতেও অসংগতির তথ্য পাওয়া গেছে।
অবৈধ পরীক্ষক ও ফলাফলের অসংগতি:
প্রকাশিত গেজেটের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপজেলা মডেল মসজিদের নিয়োগ পরীক্ষায় উপজেলা পর্যায়ের নির্ধারিত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার দুইজন অধ্যক্ষ/মুহতামিম উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আগের দিন পর্যন্ত নীতিমালায় বা আলোচনায় না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার দিন জেলা পর্যায়ের একজন এডিসি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক উপস্থিত হয়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং বর্তমান ইমামকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচিত করেন।
আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো— রেজাল্ট শিটে আইনগতভাবে বৈধ পরীক্ষকদের স্বাক্ষর থাকলেও, পরীক্ষা পরিচালনা ও মূল্যায়ন করা উক্ত এডিসি ও ডিডি মহোদয়ের কোনো স্বাক্ষর নেই। আইনগতভাবে নিয়োগ বোর্ডে থাকার সুযোগ না থাকায় এবং নিজেদের অবস্থান অবৈধ বুঝতে পেরেই তাঁরা ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই অবৈধ ও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দ্বৈত চাকরি ও অভিজ্ঞতা সনদ জালিয়াতি:
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চুনারুঘাট মডেল মসজিদে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই তিনি চাটপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় এমপিওভুক্ত আরবি প্রভাষক (ইনডেক্স: M0060781) হিসেবে যোগদান করেন। ‘মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’ এবং মডেল মসজিদের নতুন গেজেট—উভয় আইন অনুযায়ীই সরকারি বা এমপিওভুক্ত স্থায়ী পদে থেকে অন্য লাভজনক পদে চাকরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া, তিনি যে সময়ে পূর্বের প্রতিষ্ঠানে ইমামতির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন, সে সময়ে তিনি ঢাকায় নিয়মিত ছাত্র হিসেবে অধ্যয়নরত ছিলেন; যা অভিজ্ঞতা সনদের স্পষ্ট জালিয়াতি।
বরখাস্ত ও মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা প্রার্থীর অধিকার:
ইতোপূর্বে দ্বৈত চাকরির অপরাধে পটুয়াখালী, চাঁদপুর ও বিজয়নগর মডেল মসজিদে সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত ও এমপিও বাতিল করে প্যানেল ভুক্ত ১ম স্থান অর্জনকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া পরীক্ষা নীতিমালার ব্যত্যয় ও জালিয়াতির কারণে বর্তমান ইমামের নিয়োগটি শুরু থেকেই বাতিল। ফলে উক্ত ভাইভা প্যানেলের মেধা তালিকায় ১ম স্থানে থাকা বৈধ ও যোগ্য প্রার্থীর ওপরই আইনত ওই পদে পদায়নের অধিকার বর্তায়।
অনতিবিলম্বে অবৈধভাবে গৃহীত সরকারি অর্থ ফেরতসহ অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত এবং চুনারুঘাট মডেল মসজিদে আইনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।





