শেরপুরে ঝিমিয়ে পড়েছে কমিউনিটি পুলিশের কর্মকাণ্ড, অবনতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির

শেরপুরে ঝিমিয়ে পড়েছে কমিউনিটি পুলিশের কর্মকাণ্ড। ফলে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একসময় মাদক, জুয়া, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে তাদের তৎপরতা তেমন একটা চোখে পড়ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৫২টি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশের কমিটি ছিল। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এসব কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল শক্তিশালী। নিয়মিত মাসিক সভার মাধ্যমে এলাকার অপরাধপ্রবণতা চিহ্নিত করা, অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ এবং পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার কার্যক্রম চলত।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে কমিউনিটি পুলিশের কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এ কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে গ্রামপুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধের তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার ক্ষেত্রে গ্রামপুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কমিউনিটি পুলিশ ও গ্রামপুলিশের কার্যক্রম যথাযথভাবে সক্রিয় না থাকলে অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামগঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সব ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশ ও গ্রামপুলিশের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশের নিয়মিত সভা পুনরায় চালু করা, নিষ্ক্রিয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন, গ্রামপুলিশের কার্যক্রম তদারকি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহলের মতে, শেরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন পুর্বের কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির কার্যক্রম শুরু করা হবে। নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু হলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন