
মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পড়ে হামলা চালাতে গিয়ে এক হামলাকারী যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাইজুল সরদার (২২) সদর উপজেলার চর কুলপদ্বী এলাকার মৃত রুস্তুম আলী সরদারের ছেলে।
জানা যায় নিহত তাইজুল হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন।
এ ঘটনায় আহত মহসিন চৌকিদার ও জহির চৌদিকার কালিনগরের মোতালেব চৌদিকারের ছেলে। অপরদিকে আরেক আহত আল আমিন সরদার সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার বারেক সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে কালকিনির কালিগঞ্জ বাজারের হানিফ হাওলাদারের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন মহসিন ও জহিরসহ আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার। এ সময় বোরকা পড়ে ইজিবাইকযোগে এসে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ করে জহির ও মহসিন নামে দুইভাইকে কুপিয়ে জখম করে। পরে হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে তাইজুল ও আল আমিন নামে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উাপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাইজুল সরদারের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ। এদিকে গুরুতর আহত দুইভাই জহির ও মহসিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানায়, সকালে আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার সহ কয়েকজনের উপর হামলা চালাতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে মিলন চেয়ারম্যান চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারতেন। কিন্তু তার উপস্থিতিতে এমন ঘটনায় এলাকায় আরো সংঘাত তৈরি হতে পারে। এজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে নিহত তাইজুল সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
এদিকে এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান মিলন সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।





