
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কৃষি ব্যবস্থাকে জলবায়ু সহনশীল করে তুলতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কৃষকদের মাঝে ৩ হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মহিপুরে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের কারিতাস কার্যালয়ের আধারমানিক প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব চারা বিতরণ করা হয়। কারিতাস বাংলাদেশের ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পরিবেশবান্ধব কৃষি (এগ্রো-ইকোলজি) চর্চার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল অভিযোজন কৌশল বৃদ্ধিতে সক্ষমতা অর্জন’ (ECRAB) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন, মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফজলু গাজী, কারিতাস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ইসিএফএস বিভাগের ম্যানেজার সুবাস এ. গমেজ, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী।
কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মার্সেল রতন গুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কারিতাসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও প্রকল্পের উপকারভোগী নারী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা, বৃক্ষরোপণ এবং ফলজ ও ঔষধি গাছের আবাদ বাড়ানোর মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। বিশেষ করে নারী কৃষকদের সম্পৃক্ত করে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, মানুষের খাদ্য, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারিতাসের উদ্যোগে প্রান্তিক নারী ও কৃষকদের মাঝে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ একটি প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন,চারা বিতরণের পাশাপাশি এগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে নিজ নিজ চারাগাছের দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে এসব চারা ভবিষ্যতে বড় গাছে পরিণত হয়। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পতিত জায়গায় বেশি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মার্সেল রতন গুদা বলেন, কারিতাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই তাদের জলবায়ু সহনশীল করে তুলতে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা ও বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,আজ বিতরণ করা চারাগাছ শুধু গাছ নয়, এগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ পরিবেশ ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। এসব চারার যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হবে। এ উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারা রোপণ, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে উপকারভোগীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কৃষকদের হাতে ৩ হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। চারা বিতরণ শেষে তিনি মহিপুরে কারিতাস কার্যালয়ের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় কারিতাসের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নারী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মসূচি কর্মকর্তা সম্রাট সেরাও।



