
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৩১৬টি পূজামণ্ডপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এখনো মাঠে রয়েছেন ৬৭৯ জন আনসার সদস্য।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৩১৬টি পূজামণ্ডপে মোট ২ হাজার ১০ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ও ৩১৬ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) দায়িত্ব পালনে নেতৃত্ব দেন। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুরুষ ও নারী আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। পূজা শেষ হওয়ার পরও বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৬৭৯ জন আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
জানা গেছে, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজারী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পূজা চলাকালে মণ্ডপের প্রবেশপথ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাঁরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পুলিশের টহল দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও নজরদারিতে মণ্ডপগুলোতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় ছিল। নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে।
উপজেলার ঘাঘর বাজার দুর্গামণ্ডপের সভাপতি রণজিৎ সাহা বলেন, “আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক মণ্ডপে অবস্থান করায় আমরা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মায়ের পূজা-অর্চনা করতে পেরেছি। প্রশাসনের এই নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
কোটালীপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রফেসর কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় এবার উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ভূমিকা প্রশংসনীয়।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার ৩১৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ২ হাজার ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। পূজা চলাকালে সদস্যরা সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখনো ৬৭৯ জন আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।





