গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় সাড়ম্বরে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী সুকান্ত মেলা। কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড় এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার সমাপনী দিনে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা কবি-ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল কবির বাড়ির প্রাঙ্গণ।
মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় কবিতা আবৃত্তি, সুকান্তের গান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
কবির বাড়ির পাশের বিশাল মাঠে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের শিল্পকর্ম এবং শিশুদের খেলনার দোকানগুলো ছিল শিশু-কিশোরদের মূল আকর্ষণ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকান্ত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিবকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্ট রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুনিজনদের সংবর্ধণা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সেলিমুজ্জামান সেলিম,গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী,গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা কবির জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে বলেন, সুকান্তের কবিতা আজও শোষিত মানুষের অনুপ্রেরণা।
মেলায় আসা দর্শনার্থী পান্না রানী দাস জানান, সুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মারা গেলেও তার লিখনী আজও আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই মেলা নতুন প্রজন্মের কাছে কবিকে পরিচিত করার একটি চমৎকার মাধ্যম।
মেলার আয়োজক জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক জানান, কবির স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুকান্তের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এই মেলা প্রতি বছরই বড় পরিসরে আয়োজিত হচ্ছে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে মেলা সম্পন্ন হওয়ায় সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।



