
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণ কলস গ্রামে দীর্ঘ ১৮-২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। দুই সন্তানের জননী নিলুফা বেগমের বিবাহবিচ্ছেদ এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিয়ের এক মাসের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কল্যাণ কলস গ্রামের মৃত মোবারক হাওলাদারের ছেলে মো. রফিক হাওলাদার (৩৫) এবং বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের শানু হাওলাদারের মেয়ে মোসা. নিলুফা বেগমের (৩০) প্রায় ১৮-২০ বছর আগে ইসলামি বিধান অনুযায়ী রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ফারজানা (২০) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা (৮)।
সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তারা দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। রফিক রিকশা চালিয়ে এবং নিলুফা গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাতেন।
রফিকের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী নিলুফা শরীয়তপুরের বাবুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্ত্রীকে একাধিকবার এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়।
রফিক আরও অভিযোগ করেন, নিলুফার ছোট ভগ্নিপতি আব্দুর রহমান পালোয়ান ওই সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেন এবং তাকে এ বিষয়ে বাধা দেওয়ায় কয়েকবার হুমকি দেওয়া হয়। তবে আব্দুর রহমান হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে রফিকের বড় মেয়ে লাইলী বেগম তার বাবাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
এদিকে স্থানীয়ভাবে জানা যায়, নিলুফা পরবর্তীতে বাবুল নামে ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের প্রায় এক মাসের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিলুফা বেগম। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, রফিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং তাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। এ কারণে তিনি রফিককে তালাক দিয়েছেন।
রফিকের টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে নিলুফা বলেন, তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং সেই টাকা রফিক নিয়ে গেছেন।
প্রথম স্বামী রফিক তার আগের বিষয়গুলো ক্ষমা করে দিয়ে পুনরায় নিলুফাকে বিয়ে করে সংসার করতে আগ্রহী কি না এবং নিলুফা এতে সম্মত কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিলুফা প্রথমে অসম্মতি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে জানাবেন বলে জানান। কয়েকদিন পর তিনি জানান, রফিকের সঙ্গে পুনরায় ঘর-সংসার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে নিলুফার সাবেক দ্বিতীয় স্বামী বাবুলের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




