ঘোড়াঘাটে জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, নতুন ভবন নির্মাণে নেই অগ্রগতি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পুরোনো ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার স্থান পরিদর্শন করা হলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে নিজস্ব ভবন ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের দুটি ছোট কক্ষে জোড়াতালি দিয়ে চলছে সরকারি এই সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।
এতে একদিকে যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে সীমিত জায়গায় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় মানুষ।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র রয়েছে। সিংড়া ইউনিয়নের কেন্দ্রটির পুরোনো ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রায় ৬-৭ মাস একটি ভাড়া বাসায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে সেখান থেকেও সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি ছোট কক্ষে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে ওই দুই কক্ষেই সীমিত পরিসরে চলছে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা। তবে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ যেমন সংকুচিত হয়েছে, তেমনি সেবা নিতে আসা মানুষের জন্যও তৈরি হয়েছে নানা বিড়ম্বনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন নিজস্ব ভবন ছাড়া চলতে থাকায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিশেষ করে নারী, গর্ভবতী মা ও শিশুদের সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিতরণের মতো নিয়মিত কার্যক্রমে পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা পরিদর্শন ও নানা প্রক্রিয়ার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নতুন ভবন নির্মাণে কী কারণে বিলম্ব হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহম্মদ ঈসা বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।”
তিনি বলেন, “পুরোনো ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমরা এখনো পাইনি। সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দাপ্তরিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি আবারও নিজস্ব ভবনে পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা সেতুর নিচে নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদীর মাথাভাঙ্গা সেতুর নিচে শনিবার (১৯ শে সেপ্টেম্বর)