
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবকদের পালাক্রমে দায়িত্ব বণ্টন, বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
১২ অক্টোবর সোমবার চকরিয়া থানার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চকরিয়া-পেকুয়া সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সার্কেল মো. আব্দুল আজিজ। সভা সঞ্চালনা করেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
সভায় সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি তপন দাশ। এ সময় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সনাতনী সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আজিজ তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের পালাক্রমে দায়িত্ব বণ্টন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখতে হবে। পূজার সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তাতে উত্তেজিত না হয়ে বিষয়টি যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি নারায়ণ দাস এবং পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সুমন জলদাশ। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আজিজ, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা মাসুম, পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা সভাপতি তপন দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সভাপতি নারায়ণ দাস, সাংবাদিক রাজু দাশসহ সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও প্রতীক। তাই উৎসবের পবিত্রতা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।
সভায় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে যেকোনো পরিস্থিতি ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চকরিয়ায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।





