
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে সারের তীব্র সংকট। জমিতে চাষ দিয়ে সারের জন্য ডিলার পয়েন্ট ও বাজারে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় চরম হাহাকার আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, জমি প্রস্তুত করে সারের আশায় সকাল থেকে ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সার মিলছে না। বাজারে সার না থাকায় বীজতলা ও রোপণ করা জমির পরিচর্যা নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষক খলিল প্রামানিক বলেন, “আগামী মাসের ৩ তারিখের মধ্যে যদি আমাকে অন্তত ১০০ বস্তা সার না দেওয়া হয়, তবে আমার পুরো ভুট্টার জমি নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া সার কার্ডের নিয়মে একদিন পর পর মাত্র এক বস্তা করে ডিএপি (DAP) সার দেওয়া হয়—এভাবে অল্প অল্প সার দিলে আমাদের মতো বড় চাষিদের কোনো কাজেই আসবে না।”
এদিকে সারের অপ্রতুলতার বিষয়টি স্বীকার করে কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা জানান, আগামী মাসে সারের নতুন ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ডিলাররা উত্তোলন করলে কৃষকেরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সার কার্ডের মাধ্যমে সার পাবেন।
সংকট দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, “আগামী মাসের ৩ তারিখে ডিলাররা সারের নতুন ডিও উত্তোলন করবেন। বরাদ্দকৃত সার পৌঁছানোর পর থেকেই কৃষকদের মাঝে নিয়মিত সার বিতরণ শুরু হবে।”
তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দাবি, আগামী মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং কার্ডের মাধ্যমে কিস্তিতে নামমাত্র সার পাওয়ার প্রক্রিয়া তাদের চাষাবাদকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে পর্যাপ্ত সার দ্রুত সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।





