চুয়াডাঙ্গা, শিবনগর ইকো পার্কে গাছ কাটায় অনিয়মের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কে সরকারি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গাছ কাটা হয়েছে—এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং নিলাম প্রক্রিয়ার সব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই দিনে পার্কে প্রায় ৬০টি তাজা ও মৃত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অথচ উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছিল মাত্র ২৯টি গাছ কাটার। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদনের সীমা অতিক্রম করে গাছ কাটা হয়ে থাকলে সেটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে গুরুতর প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, গাছ কাটার বিষয়ে কোনো উন্মুক্ত নিলাম বা টেন্ডারের তথ্য সাধারণ মানুষ জানতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, চন্দ্রবাস গ্রামের বাহালুল নামে এক ব্যক্তি নিলামের মাধ্যমে গাছগুলোর ক্রেতা। তবে নিলামের শর্ত, অনুমোদিত গাছের তালিকা এবং বাস্তবে কতটি গাছ কাটা হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চুয়াডাঙ্গা দেশের অন্যতম উষ্ণ জেলা। গ্রীষ্মকালে এ জেলায় তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিণত গাছ কেবল কাঠের উৎস নয়; এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুর মান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের জন্য প্রাকৃতিক ছায়া নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারি গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, গাছ কাটার জন্য নিয়ম অনুযায়ী নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। তবে অনুমোদিত সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছে। তিনি জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, নিলামের মাধ্যমে ঠিক কতটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল, কোন গাছগুলো কাটার অনুমোদন ছিল, বাস্তবে কতটি গাছ কাটা হয়েছে এবং অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়ে থাকলে এর দায়ভার কে নেবে? তারা নিলাম বিজ্ঞপ্তি, কার্যাদেশ, অনুমোদিত গাছের তালিকা এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
এখন পুরো জেলার নজর প্রশাসনের তদন্তের দিকে। তদন্তে যদি অনুমোদনের বাইরে গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই হবে জনসাধারণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের জবাবদিহিতাও এ ঘটনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন