
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৭ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়নের খড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবন্তী রানীর নিয়মিত উপস্থিতি, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অসংগতি এবং চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টানা ১২ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর বিদ্যালয়ে যোগদানের পর প্রথম কয়েক মাস প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলেও দুপুর ১টার দিকে চলে যেতেন। তাঁর বাড়ি খুলনায় হওয়ায় সেখান থেকে নিয়মিত যাতায়াত করেন বলেও দাবি তাঁদের। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে দেখতে না পেয়ে অভিভাবকেরা শিক্ষকদের হাজিরা খাতা দেখতে চান। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাইজা খাতুন প্রথমে হাজিরা খাতা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে খাতা দেখার পর প্রধান শিক্ষকের কয়েক দিনের স্বাক্ষরে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের আরও দাবি, টানা ১২ দিনের অনুপস্থিতির সময় হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর, ছুটির আবেদন কিংবা লিখিত তথ্য ছিল না। পরে অভিভাবক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সহকারী শিক্ষক নাইজা খাতুন ওই দিনের নির্ধারিত স্থানে প্রধান শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন বলে লিখে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ছুটির আবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে ছুটির আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, প্রধান শিক্ষকের স্বামী খুলনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হওয়ায় তিনি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক এর আগে স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং স্বামীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক অবন্তী রানী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং দাপ্তরিক নথিপত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। হাজিরা খাতার স্বাক্ষর, চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন এবং অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।





