
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মজিবুর মল্লিক, ভুক্তভোগী বাইতুল, কবির ব্যাপারী, সোহেল মল্লিক, আনোয়ার মল্লিকসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা ইউনিয়ন যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত নজরুলকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, চাঁদা দাবি, মাদক কারবার, ধর্ষণসহ ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন চরাঞ্চলে জমি দখলসহ নানা কর্মকাণ্ডে নজরুলের প্রভাব রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। এ ছাড়া মাদক কারবারের প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। নজরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাবের কারণে অনেকেই তার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নজরুলের কথিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মজিবুর মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় নজরুলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছুদিন আগে ওই এলাকার একটি সড়ক নির্মাণকাজে তার কাছে নজরুল মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মজিবুর মল্লিক আরও বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মজিবুর মল্লিক।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও নজরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল দৈনিক আজকের খবরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সড়ক নির্মাণকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করায় তিনি ওই নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছিলেন।
ধর্ষণের মামলার বিষয়ে নজরুল দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তিনি অপরাধী হলে তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





