
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভায় অংশ নিতে এসে অন্তত আটজনের মোবাইল হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সাতজন রাজপাড়া থানায় এবং একজন বোয়ালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
হারানো ফোনের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইটের ছেলের মোবাইল ফোনও।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে আরএমপি বোয়ালিয়া ও রাজপাড়া থানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। জনসভায় অংশ নিতে এসে ভিড়ের মধ্যে এসব ফোন হারানোর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট জানান, প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে মঞ্চ ছাড়ার সময় তার ছেলে তাওসীফ আজাদ মঞ্চের পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় ভিড়ের মধ্যে তার ছেলের মোবাইলটি হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় জিডি করা হয়েছে।
ফোন হারানোর অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ বাদশাও। তিনি জানান, জনসভা শেষে মাদ্রাসা ময়দানের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় তার পাঞ্জাবির পকেট কেটে মোবাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করবেন বলে জানিয়েছেন।
ফোন হারানোর পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠানো কিংবা তার নাম ব্যবহার করে বিব্রতকর কোনো পোস্ট দেওয়া হলে তা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন ফরহাদ বাদশা।
মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারী বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই। তবে একটি জিডি হওয়ার কথা নিশ্চিত করে বিস্তারিত জানতে ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
বোয়ালিয়া থানার ডিউটি অফিসার জানান, আবুল কালাম আজাদ সুইটের ছেলে মোবাইল হারানোর ঘটনায় জিডি করেছেন। জনসভাস্থল থেকে থানার আওতাধীন এলাকায় ফোনটি হারানোর অভিযোগ পাওয়ায় জিডি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন জিডি করতে এসেছিলেন। তবে তাদের ফোন হারানোর স্থান থানার আওতাধীন না হওয়ায় রাজপাড়া থানায় পাঠানো হয়েছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত সাতটি জিডি হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় হারানো ফোনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় কোনো অপরাধী শনাক্ত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।




