ভোলার মনপুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
আহত ব্যক্তি আলাউদ্দিন হাজিরহাট বাজারের একজন মোবাইল ব্যবসায়ী ও মনপুরা উপজেলার হাজির হাট ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট মনপুরার কলাতলী ইউনিয়নে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান আরটিভির মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি সোহাগ মাহমুদ সৈকত ও চ্যানেল ভোলার মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এতে সাংবাদিকরা বাধা দিলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিকদের দাবি, তারা কলাতলী ইউনিয়নে মহিষের জন্য ঘাস কেনার বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সেখানে গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল খালেকের বক্তব্য নিতে কবির বাজারের একটি চায়ের দোকানে গেলে একপর্যায়ে খালেক তাদের ওপর চড়াও হন।
এরপর আব্দুল খালেকের ভাই ও হাজিরহাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি ছাত্রলীগের কর্মী সোহাগ মাহমুদ সৈকত ও মেহেদী হাসানের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ছবি ও তথ্য পোস্ট করেন।
পোস্টগুলোতে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে ছবি, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ছবি, বঙ্গবন্ধুর ১৫ আগস্ট পালনের ছবি এবং মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ফারেজ সামীর সঙ্গে ছবি রয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির একটি মামলার কপিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আলাউদ্দিনের অভিযোগ, এসব পোস্ট দেওয়ার জের ধরে রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তার গতিরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
ঘটনার পর মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন আলাউদ্দিন। সেখানে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন এবং ব্যবসায়িকভাবেও হয়রানির শিকার হয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও যদি আগের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার কারণে হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নুর ইসলাম নয়নের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মনপুরা উপজেলা যুবদলের সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, “বিএনপি সরকার আমলে বিএনপির কর্মীরা ফ্যাসিস্টদের দোসরদের হাতে মারধরের শিকার হচ্ছেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। যারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সাংবাদিক সোহাগ মাহমুদ সৈকত ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



