‘মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে নিয়ে যাচ্ছে’—সৎ বাবার সঙ্গে বের হওয়ার আগে ৯ বছরের তাসপিয়ার মুখে বলা এ কথাই হয়ে রইল শেষ কথা। পরে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির মরদেহ। এ ঘটনায় তাসপিয়াকে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার সৎ বাবা শাফিউল ইসলাম (৪০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাসপিয়াকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে রাণীগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যানে করে কবিরপুর ও গোবিন্দপুর হয়ে মুসিপাড়া ঘাটে নিয়ে যান শাফিউল। পরে সেখান থেকে নৌকায় করে ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহসংলগ্ন করতোয়া নদীর মাঝামাঝি এলাকায় যান তারা। সেখানে শিশুটিকে প্রথমবার পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন শাফিউল।
পুলিশ জানায়, কিছুক্ষণ পর শিশুটির প্রতি মায়া হলে তাকে নদী থেকে তুলে নৌকায় নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন শাফিউল। পরে তীরে ফেরার সময় স্ত্রী লিজার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে আবার নদীতে ফেলে দেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
এরপর পরদিন সন্ধ্যায় করতোয়া নদীতে তাসপিয়ার মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাসপিয়ার মা লিজার সঙ্গে তার বাবা মমিনুলের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০২২ সালে। পরে লিজা শাফিউল ইসলামকে বিয়ে করেন। ২০২৫ সালের দিকে তাসপিয়াকে তার মায়ের কাছে নেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে সৎ দাদা-দাদির কাছে রেখে জীবিকার প্রয়োজনে লিজা ও শাফিউল ঢাকায় চলে যান বলে জানা গেছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তাসপিয়া হত্যার ঘটনায় তার সৎ বাবা শাফিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় শিশুটির আপন বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেফতার শাফিউলকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।