নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা রেল প্রতিমন্ত্রীর

কুমিল্লার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ যাত্রী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। একই সঙ্গে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের চিন্তাভাবনা আছে অ্যানালগ পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতির রেলগেট করার। অরক্ষিত রেলগেটগুলো ঠিক করা দ্রুত সংস্কার কাজ করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এর আগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম) বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা জানান, রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।’

শনিবার ভোরে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রসিংয়ের গেট পুরোপুরি নামানো ছিল না। বাসটি দ্রুত লাইনে উঠে পড়লে মুহূর্তেই ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৮ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আরও ১৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতদের স্বজনরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্রসিংয়ে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। তারা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন