পূজায় গুজব ও উসকানি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান ময়মনসিংহের এসপি কামরুলের।

ময়মনসিংহে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত  মতবিনিময় সভায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসান। এসময় তিনি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোরও পরামর্শ দেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে  জেলার ১৪ টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রচার বা শেয়ার করা যাবে না। কোনো গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। কেউ গুজব বা উসকানির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সে বিষয়েও পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায়
নারী ভক্তদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্ম, শ্রেণি-পেশা ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
পূজামণ্ডপে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দমাত্রা ও সময়সীমা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের মসজিদে আজান ও নামাজের সময় বিশেষ সতর্কতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, কোনো ছোটখাটো বিরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন বড় ধরনের পরিস্থিতিতে রূপ না নেয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সম্ভাব্য সমস্যা ও স্থানীয় পরিস্থিতি তুলে ধরেন। জেলা পুলিশ তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
সভায় জেলা কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজারী, ভক্ত, স্বেচ্ছাসেবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন  ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে

কালীগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় ওই তিন ব্যবসায়ীকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীদের এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কালীগঞ্জ পৌরসভার দড়িসোম এলাকায় ব্যবসায়ী রাজু আহমেদকে ৫ হাজার টাকা, চুন্নু মিয়াকে ৩ হাজার টাকা ও দক্ষিণ ভাদার্ত্তীর মো. রেজাউল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন হালদার বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা একটি বড় ধরনের অপরাধ। যেই সব ব্যবসায়ীরা এই রকম কাজ করবে তাদের অর্থদণ্ড ও সাজা প্রদান করা হবে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।