
হাতে পলিথিনে মোড়ানো আদালতের কাগজ। পাশে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্ত্রী। চোখে ঘুম নেই, মুখে নেই কোনো স্বস্তি। রয়েছে শুধু আকুল আকুতি—একটুখানি ন্যায়বিচার। পৈতৃক জমির ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়ে আজ ভিটেমাটি হারানোর আর প্রাণভয়ের আতঙ্কে এক আদালত থেকে আরেক দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন ময়মনসিংহের ফুলপুরের রাজমিস্ত্রি আমির উদ্দিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বওলা ইউনিয়নের কোকাইল (তৃতীয় খণ্ড) গ্রামের আমির উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের পারিবারিক ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সালিস-দরবারে সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। কিন্তু আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগী আমির উদ্দিনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী ও সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গত দুই দিন আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এর আগেও তাঁকে রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়, যার জন্য প্রায় আট দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এই রাজমিস্ত্রি। দিনমজুরি করে যা পান, তা দিয়েই চলে সংসার। কিন্তু এখন জীবিকার চেয়ে পরিবারের নিরাপত্তা তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজে বের হলে পেছনে স্ত্রী-সন্তানের ওপর আবার কোনো হামলা হয় কি না—এই আতঙ্কে রাতে ঘুমাতো পারছেন না তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমির উদ্দিন বলেন, “আমার টাকা নেই, জোর-প্রভাব নেই। আছে শুধু সত্য বলার সাহস আর বিচারের আশা। আমি অন্যায় কিছু চাই না, শুধু আমার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অধিকারটুকু চাই। গরিবের বিচার কোথায় গেলে পাওয়া যায়, কেউ কি আমাদের একটু পথ দেখাবেন?”
এ বিষয়ে আমির উদ্দিন ও তাঁর পরিবার প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।





