
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, জনগণের কথা না শুনলে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা সঠিক পথ হারাবেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন,জনগণ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে। আপনাদের যদি কথা বলতে না দেওয়া হয়, আপনাদের কথা যদি না শুনি, তাহলে আমরা পথ হারাবো। তখন আমরা আর সেই সঠিক পথে আসতে পারবো না। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে যেন আর ফ্যাসিবাদ ফিরে এসে কোনো মায়ের বুক খালি করতে না পারে, কোনো স্বজনকে হারিয়ে পরিবারকে রাতের পর রাত অপেক্ষা করতে না হয়—এমন পরিবেশ তৈরি করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টরা ফিরে এসে আর কোনো মায়ের বুক খালি করতে না পারে, কোনো মাকে স্বজনের ফেরার প্রতীক্ষায় দুই হাত তুলে মোনাজাত করতে না হয়—এরকম পরিবেশ যাতে আর না হয়, আমাদের সবারই লক্ষ্য এটাই।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকতে পারে। তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,আমাদের মতের মিল বিভিন্ন দলে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এই দেশ আমাদের। এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে ফ্যাসিজমের পথ আমাদের দমন করতে হবে। আমরা যদি এই পথটা এখনো তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা পথ হারাবো, সবাই বিপদে পড়বো।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা জেলার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য খান মশিউর রহমান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেলসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




