পবিত্র ঈদুল ফিতরের পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদ উপলক্ষ্যে টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজারো পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের এমন ভিড় দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ।এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে গুলো আগত পর্যটদের পদচারণায় মূখর হয়ে উঠেছে। এতে ভালো ব্যবসার সুবাতাস বইছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে।তবে জ্বালানি সংকটের কারনে কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে গাড়ি ও নৌ চালকদের।
ঢাকা থেকে আগত লক্ষণ বিশ্বাস ও শিখা বিশ্বাস দম্পতি বলেন, পরিবার নিয়ে এই প্রথম বান্দরবান বেড়াতে এসে কয়েকটি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেছেন।তবে এই স্পট গুলোর মধ্যে নীলাচলটি সব থেকে ভালো লেগেছে বলে জানান তারা।
ভোলা থেকে আগত ব্যবসায়ী মো. মুরাদ বলেন, এর আগেও অনেক বার বান্দরবানে আসলেও যতবারই এসেছেন ততবারই ভালো লাগে। পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কেন জানি বিমোহিত করে তাকে। ফলে সুযোগ পেলেই তিনি বান্দরবানে ছুটে আসেন।
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা আরেক পর্যটক বেসরকারী চাকুরীজীবি নুর আলম বলেন, এই প্রথম পরিবার নিয়ে বান্দরবানে আসেন তিনি।ভ্রমণে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয়দের আন্তরিকতায় মুগ্ধ করেছে তাকে।
নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশী পর্যটক নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করেছেন।দিনের বাকি সময় গুলোতে এই সংখ্যা ৩-৪ হাজারে পরিনত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
জীপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান মো.কামাল হোসেন বলেন সকাল থেকে প্রতি গাড়িতে ১৩ জন করে ২৩০টি পর্যটক বাহী গাড়ি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ ফরিদ উদ্দিন খাঁন বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে গত দুই দিনে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে।তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও সাদা পোষাকে কাজ করছে পুলিশ।এ ছাড়া এই পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনার কোন প্রকার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি




