বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার টারগুপাড়া সীমান্তে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর রামু সেক্টরের অধীনস্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়,ইমপ্রোভাইজ্ড এক্সক্লুসিভ ডিভাইস (আইইডি) ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন শনাক্ত করেছে এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাঁড়ী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবিরের দেয়া এক প্রেস বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রেস বার্তায় জানানো হয়,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ টারগুপাড়া বিওপির একটি টহলদল গত ৯ এপ্রিল, দুপুরে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় বিজিবি টহলদল ৪-৫ জন সন্দেহ
ভাজন ব্যক্তিকে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা কয়েকটি ব্যাগ ফেলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য আইইডি, ১টি মেটাল ডিটেক্টর, ১টি সোলার প্যানেল উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। একইসাথে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানান, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন স্থাপনের ঝুঁকি এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ চোরাচালানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।
অপরদিকে, একই দিন দুপুরে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
উদ্ধারকৃত রাসায়নিক পদার্থসমূহ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে প্রেরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয় বিজিবি’র পক্ষ হতে।




