কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাদশা মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামাই, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ তিন জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের মিস্ত্রির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন।
নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ময়নার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
স্বজনেরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন। সেখানে আগামী শুক্রবার অন্তঃসত্ত্বা ময়নার শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মতিন মিয়া বাদশা মিয়ার গলা চেপে ধরেন। এতে ঘটনাস্থলেই বাদশা মিয়ার মৃত্যু হয় বলে দাবি স্বজনদের।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।




