ভূরুঙ্গামারীতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ছোট ভাইয়ের জমি ও ঘর দখলের অভিযোগ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে, সালিশ অমান্য করে সংঘর্ষে আহত ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার মৌজার সোনাতলী এলাকায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আপন ছোট ভাইয়ের বসতভিটা ও ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রভাব খাটিয়ে শুরু হওয়া এই বিরোধের জেরে সম্প্রতি সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঘর ভাঙতে গিয়ে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছোট ভাই আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
​জমির মালিকানা ও দখলের পটভূমি:
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম লিটন জানান, এই সম্পত্তি তার নিজ নামে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৪০৬ নম্বর দলিল মূলে তাদের পিতা মৃত রুস্তম আলী ৩২ শতক বাগান শ্রেণির ভূমি তাঁকে হেবা (দানপত্র) ঘোষণা করেন। আর এস খতিয়ান নং ৩১৬৭, পরবর্তীতে তিনি নিজের নামে খারিজ (খতিয়ান নং ২০২৬-১০০০০৭) সম্পন্ন করেন। ওই জমির ভেতরে পিতার রেখে যাওয়া একটি ঘরসহ সম্পত্তি লিটনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
​পিতার মৃত্যুর পর বড় ভাই, পেশায় কনস্ট্রাকশন ঠিকাদার হাফিজুর রহমান মালামাল রাখার কথা বলে ছোট ভাই লিটনের কাছ থেকে ঘরটি ভাড়ায় নেন। কিন্তু পরবর্তীতে ঘরটি খালি করতে বললে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি জোরপূর্বক জমিটি বেদখল করে রাখেন। এ ঘটনায় লিটন থানায় অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে তখন কোনো প্রতিকার পাননি এবং দীর্ঘদিন তাকে জমিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
​সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য ও নতুন উত্তেজনা:
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—আলহাজ্ব বেলাল হোসেন আকন্দ, মো. রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেকসহ এলাকার অন্যান্য মুরুব্বিদের নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে সবার সম্মতিতে জমিটি ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম লিটনকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং হাফিজুর রহমান তা মেনেও নেন। এরপর লিটন সেখানে বাউন্ডারি বেড়া দিয়ে একটি টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেন।
​তবে বাবার আমলের ভাড়ায় নেওয়া পুরোনো ঘরটি খালি করার কথা বললেও হাফিজুর রহমান তাতে অস্বীকৃতি জানান এবং টালবাহানা শুরু করেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলেও হাফিজুর রহমান উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান।
​ঘর ভাঙা ও মারধরের ঘটনা:
গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসাহাক আলী, হাজী তারিফুল ইসলাম মুকুল, মো. ইউসুফ আলীসহ এলাকার গণমাধ্যম কর্মী ও গণ্যমান্য  ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বড় ভাইয়ের মালামাল ঘর থেকে বের করে তার বাইরের বাড়িতে রাখা হয় এবং সবার সামনে ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়।
​এ সময় মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য ডাকলে বড় ভাই হাফিজুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে ছোট ভাই লিটনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা ঘাড়ের হাড়ের ওপর পড়ে লিটনের হাড় ভেঙে যায়। এবং তিনি এলাকাবাসীর সামনে বলে আসছেন আজ হোক বা পাচ বছর পর হোক আওয়ামিলীগ দল ক্ষমতায় আসলে সকল জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেবে।  এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হামলাকারীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
​নিরাপত্তার আকুতি:
ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শহিদুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, “আমার স্বামী, সন্তান ও আমাদের ওপর যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা হতে পারে। আমরা প্রাণভয়ে ভীত। প্রশাসনের কাছে এবং সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।” এবং তারা ভূল তথ্যের ভিত্তিতে যে নিউজ প্রচার করেছে সে নিউজ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন