মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ? ইস্তাম্বুল বৈঠকে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’-এ বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে জোটের তিন সদস্য দেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠকে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা। বর্তমানে এই তিন দেশই চুক্তির সদস্য।
এদিকে জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তিতে যোগ দিলেও বাংলাদেশের অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত হবে না। তিনি জানান, ঢাকা ভারসাম্যপূর্ণ ও নমনীয় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি অনুসরণ করবে।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ এ ধরনের ইসলামী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশকে জোটের সদস্য করার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইস্তাম্বুলের আজকের বৈঠক থেকেই বাংলাদেশের সদস্যপদ চূড়ান্ত হবে—এমন দাবি আপাতত নিশ্চিতভাবে করা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান হলে এটি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নয়, বরং ঢাকার ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো—বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা চলছে; সদস্যপদ চূড়ান্ত হওয়ার খবর এখনো নিশ্চিত নয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন