মাগুরা জেলার ঐতিহ্যবাহী ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য ‘হাজরাপুরী লিচু’র সুনাম, ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে দেশজুড়ে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী লিচু মেলা। গত শনিবার (১৬ মে ২০২৬ খ্রি.) মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন লিচু বাগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত এই মেলা আজ ১৭ মে (রবিবার) সফল সমাপ্তি ঘটেছে।
মাগুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই মেলায় স্থানীয় কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
মেলার উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯১ মাগুরা-০১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ মনোয়ার হোসেন খান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বিপিএম (সেবা), মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও মাননীয় মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ আল মারুফ এবং ঢাকার খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং-এর পরিচালক ড. মোঃ হযরত আলী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার। জমকালো এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হাজরাপুরী লিচু মাগুরার অন্যতম গৌরব ও ঐতিহ্য। অনন্য মিষ্টতা ও স্বাদের কারণে এটি ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। মেলায় হাজরাপুরী লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক পদ্ধতিতে বাজারজাতকরণ সম্প্রসারণ, লিচু চাষিদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ এবং বিশ্বব্যাপী এই জিআই পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় চাষিরা তাদের বাগানের রাসায়নিকমুক্ত ও সুস্বাদু হাজরাপুরী লিচুর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সমাপনী দিনে কৃষকেরা বলেন, এ ধরনের মেলা আয়োজনের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং চাষিরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। দুই দিনব্যাপী চমৎকার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে হাজরাপুরী লিচুর ব্র্যান্ডিং আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



