মাগুরা জেলার মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে রাতভর টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা গভীর রাতে নিজেই মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করে টহলরত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কজুড়ে বর্তমানে পাঁচটি টহল দল নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। আলমখালী, মঘিরঢাল, ধলহরা বাজার, গাংনালিয়া এবং মাগুরা ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাতভর টহল ও নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব টহল দলের মূল লক্ষ্য মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
রাতের বিশেষ তদারকির সময় পুলিশ সুপার টহলরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি কর্তব্যরত সদস্যদের উৎসাহিত করতে তিনি নিজ হাতে চা-নাস্তা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সময় কাটান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএম-সেবা, মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপারের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন টহলরত পুলিশ সদস্যরা। ইন্সপেক্টর আরিফ বলেন, “এই প্রথম এমন একটি উদ্যোগ দেখলাম। আমাদের খুব ভালো লেগেছে। এতে আমাদের কাজের প্রতি আরও স্পৃহা ও উৎসাহ বাড়বে।”
ইন্সপেক্টর মো. মোকাম্মেল হক বলেন, “প্রায় ২০ বছরের চাকরি জীবনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এভাবে কোনো পুলিশ সুপারকে রাতের বেলায় আমাদের খোঁজ নিতে দেখিনি। তিনি আমাদের কথা ভাবেন, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রেরণা।”
ইন্সপেক্টর কাওসার আলম বলেন, “৩১ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথম কোনো পুলিশ সুপার নিজ হাতে আমাদের জন্য চা-নাস্তা নিয়ে এসেছেন এবং রাতে দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেছেন। স্যারের এই আন্তরিকতা আমাদের দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রাণিত করবে।”
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, “মাগুরা জেলার মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ও তদারকি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “সড়ক ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের সদস্যরা রাত জেগে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দিতে আমি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন টহল পয়েন্ট পরিদর্শন করছি এবং সদস্যদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিচ্ছি।”




