মিটফোর্ডে বিদ্যুতের ‘অবৈধ বাণিজ্য’! দোকান থেকে বাসা—রিপনের বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ

রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকায় সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘রিপন’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মিটফোর্ড এলাকার বিভিন্ন ফুটপাতের দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কিছু বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এর বিনিময়ে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিন হোস্টেলের সামনের পুরোনো ভাঙা বাড়ির নিচতলা ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, ওই স্থাপনায় সরকারি বৈধ বিদ্যুৎ লাইন বা অনুমোদিত সংযোগ না থাকার পরও সেখানে ‘রিপন’-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগই নেই, সেখানে বিদ্যুৎ আসছে কোথা থেকে? কার অনুমতি নিয়ে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে? আর এর বিনিময়ে কে বা কারা টাকা আদায় করছে?
অভিযোগ রয়েছে, শুধু একটি বাড়ি নয়—মিটফোর্ড হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় একাধিক দোকান ও বাসায় একইভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফুটপাতের ছোট দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপনায় তার টেনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
দেশে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে, তখন সরকারি ব্যবস্থার বাইরে এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়, অন্যদিকে তেমনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
বিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত কি না—তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ আরও বিস্তৃত। তাদের দাবি, এতগুলো দোকান ও বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে থাকার কথা নয়। ফলে এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে।
‘লাইন কার, টাকা কার?’—উঠছে প্রশ্ন
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণ মানুষকে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে নিয়ম-কানুন ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অথচ একই এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে তা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে—এ প্রশ্নের উত্তর চান তারা।
তাদের দাবি, মিটফোর্ড এলাকা ঘুরে প্রতিটি দোকান ও সন্দেহজনক স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করা হোক। কোথায় সরকারি মিটার রয়েছে, কোথায় নেই, কোন লাইন থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছে এবং কার মাধ্যমে টাকা আদায় করা হচ্ছে—এসব তথ্য যাচাই করা হোক।
কঠোর ব্যবস্থা চান স্থানীয়রা
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে শুধু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেই হবে না; এর পেছনে থাকা ব্যক্তি, অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতরা এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে ‘রিপন’ নামের ওই ব্যক্তির বক্তব্যও নেওয়া জরুরি—তিনি কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এসব বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিনিময়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য কী।
মিটফোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল এলাকার মধ্যে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বিষয়টি শুধু বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ হিসেবে নয়, জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি—‘বিদ্যুতের লাইন কার, অনুমোদন কোথায়, আর টাকা যাচ্ছে কার পকেটে’—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর বের করতে দ্রুত তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হোক।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন