
মুন্সীগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা, বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক উপমন্ত্রী ও পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল হাই আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তাঁর মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেতার প্রয়াণে তাঁর অনুসারী, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
আলহাজ্ব আব্দুল হাই ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং সরকারের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে আলহাজ্ব আব্দুল হাই ছিলেন পরিচিত ও প্রভাবশালী একটি নাম। দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জেলার বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি দলটির নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করতেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। জাতীয় পর্যায়ে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জেলার বিএনপির সাংগঠনিক ইতিহাসের নানা অধ্যায়।
দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন প্রবীণ অভিভাবকতুল্য নেতা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকে তাঁকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির বটবৃক্ষ হিসেবে অভিহিত করতেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন
আলহাজ্ব আব্দুল হাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সরকারের উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও বিস্তৃত ছিল।
স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় পর্যায়ে দলীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর প্রয়াণে মুন্সীগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতাকে হারানোর শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলহাজ্ব আব্দুল হাই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁর মৃত্যুর খবরে দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও প্রবীণ এই নেতার প্রয়াণে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে অপূরণীয় শূন্যতা
আলহাজ্ব আব্দুল হাইয়ের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য নয়, মুন্সীগঞ্জের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত নেতাকর্মীদের জন্য এক বেদনাবিধুর ঘটনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি যে পরিচিতি ও অবস্থান তৈরি করেছিলেন, তাঁর প্রয়াণে সেই জায়গায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, দলীয় নেতৃত্ব এবং জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।




