যুদ্ধের মধ্যে ইরানে ‘বিজয়’ উদযাপন করেছেন বাসিন্দারা। এজন্য রাজধানীতে রাস্তায় নেমে এসেছেন সরকারপন্থিরা। ইরানে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী উপলক্ষে তারা এ উৎসবে অংশ নিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটি ‘যুদ্ধজয়ের’ প্রত্যাশায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে রাজধানী তেহরানে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দিনটি ‘ইসলামিক রিপাবলিক ডে’ হিসেবে পালিত হয়, যেদিন ১৯৭৯ সালের গণভোটে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
সরকারপন্থি নেতারা সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যে কোনো ধরনের বিরোধিতা বা সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছেন, তবে আলোচনার প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেননি। তিনি বলেন, সমর্থকদের সঙ্গে একত্র হয়ে “মনোবল অর্জন” করতেই তিনি রাস্তায় নেমেছেন।
এদিকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে রাস্তায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে মানুষ ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান দিচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইআরজিসির সহযোগী বাহিনী বাসিজসহ অন্যান্য বাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল ও চেকপোস্ট বসিয়েছে।
এছাড়া ইরানের মিত্র ইরাকি বাহিনী হাশদ আল-শাবির (পিএমএফ) সদস্যদেরও তেহরানের রাস্তায় উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখ্য, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরান বিদেশি মিত্র বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ।




