মঙ্গলবার,২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুব-নেতৃত্বে বিকল্প কর্মসংস্থান, সাইবার সুরক্ষা, যুব-নারী-বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা ও বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে এডভোকেসি অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যুব-নেতৃত্বে বিকল্প কর্মসংস্থান, সবুজ উদ্যোক্তা তৈরী, সাইবার সুরক্ষা ও যুব-নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল-২০২৬) সকাল ১০ টায় তুফান কনভেনশন সেন্টার এন্ড রিসোর্ট (লেক ভিউ) বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এ এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশ এর ডেপুটি ম্যানেজার (প্রোগ্রাম এন্ড পার্টনারশিপ) মো: আরিফ সিদ্দিকী, ডেপুটি ম্যানেজার ইয়ূথ এন্ড জাষ্ট সোসাইটি মোসতাহিদ জামি।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক
 সঞ্জিত কুমার দাস, জেলা সমাজসেবা অফিসের  সহকারী পরিচালক, মো: রোকনুজ্জামান,জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের  প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম,
টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের জব প্লেসমেন্ট অফিসার আরিফুল ইসলাম , উপজেলা  সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম,
মাছরাঙা টেলিভিশন ও আমাদের সময় জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, টিআইবি প্রতিনিধি রাইহাতুল জান্নাত রিমি,মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন, স্বদেশ পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত।
 প্রকল্পের কার্যক্রম ও কর্মসূচির লক্ষ্য উদ্দেশ্য  উপস্থাপন করেন একশনএইড বাংলাদেশ এর ডেপুটি ম্যানেজার (প্রোগ্রাম এন্ড পার্টনারশিপ) মো: আরিফ সিদ্দিকী।
এডভোকেসির উদ্দেশ্য ছিল সরকারী পরিসেবা সংস্থাগুলিতে গুনগত মান উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলি চিহ্নিত করা, পরিসেবার মান নিশ্চিত  করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অংশীজনদের সাথে এডভোকেসিতে অংশগ্রহন করা। যুব নেতৃত্বের অধিীনে অধিকার, নিরাপদ সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল বিশ্বের নিরাপত্তা বিষয়ে যুবকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করা।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতি বৃষ্টি,অনা বৃষ্টি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং কৃষি কাজে ব্যপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে যার ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তথা কৃষি, মৎস্য, ও প্রাণী সম্পদ উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও তার ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট হচ্ছে, মানুষের মাঝে স্থানান্তরের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং শহরে মানুষের চাপ বাড়ছে  ও জীবিকায়ন কঠোর হচ্ছে।
উক্ত এডভোকেসি সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবের যুব সদস্যদের পরিবেশনায নাটক প্রদর্শনের মাধ্যমে সমস্যাবলী তুলে ধরেন এবং সমাধানের  প্রস্তাবনা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত সমস্যাবলী সমাধানের সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
জলাবদ্ধ এলাকায় বিকল্প ফসল চাষে বিকল্প জীবিকায়নে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ। যুব সংগঠনগুলোকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া। সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা। উপর্যুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। প্রশিক্ষনার্থীদের অনলাইন ডেটা বেইজড এর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে একজন তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে না পারে এবং সাথে  সাথে একের অধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার প্রবণতা কমে যাবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যুব বান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে যুবরা প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত কর্মে নিযুক্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের পূর্বে প্রশিক্ষনার্থীরা ট্রেড ভিত্তিক কতটুকু উপযুক্ত যেটি যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাজার বিশ্লেষণ, চাহিদা নিরুপণ, বাজার লিংকেজ, উপকরণ সরবরাহকারী, বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ী সমাজের সাথে প্রশিক্ষনার্থীদের সমন্বয় করা একান্ত জরুরী। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক প্রদত্ত সকল প্রশিক্ষণ সম্পর্কে অন লাইন বা অপ লাইন প্রচার করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণ ও ঋণ পরবর্তীসময়ে বেশি বেশি করে সুপারভিশন ও মনিটরিং করা যাতে করে প্রশিক্ষনার্থীরা প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ উপর ভিত্তি করে মূলধন তাদের ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে পারে এবং তাদের কর্মদক্ষতা আরো বেশি বৃদ্ধি করতে পারে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের কাউন্সিলিং বা মেন্টরিং করে উপযুক্ত কর্মে নিযুক্ত করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে কিছু যুবদের সুযোগ করে দিতে হবে ফলে যুবরা এলাকায় বেশি বেশি করে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রচার করতে পারবে। যুব ও নারীবান্ধব বাজেট বরাদ্দ রাখা। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবরা যাতে ব্যবসা শুরু করা, পরিচালনা করা ও ব্যবসা বৃদ্ধি করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারে সে বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ বিবেচনা করতে পারেন। ফলে যুবরা চাকুরী চাওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং আরো অধিক বেকার মানুষকে চাকুরী প্রদান করতে পারবে বলে বিশ^াস করা যায়। যুবদের জন্য সরকারি পর্যায়ে অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরী করা যাতে তারা অন লাইনে তাদের পণ্যের বাজার ধরতে পারবে এবং বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদানকালীন সময়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারেন। সরকারী স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানো।
সাকিব হাসান এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: তহিদুজ্জামান,  একশনএইড বাংলাদেশ ইন্সপেরিটর প্রিয়াংকা সেন মৌ, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন