
ফরিদপুর সদর হাসপাতালে মুমূর্ষু এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের জীবন বাঁচাতে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। জরুরি ভিত্তিতে রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিলে নিজেরাই এগিয়ে এসে ৫ ব্যাগ রক্ত দান করেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে আসা এক প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনের পর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু রোগীর স্বজনদের পক্ষে এত দ্রুত প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ালে এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংকটময় এই মুহূর্তে আর দেরি না করে পাশে দাঁড়ান হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. পল্লবীর নেতৃত্বে চিকিৎসাকর্মীরা নিজস্ব শরীর থেকে ৫ ব্যাগ রক্ত প্রদান করেন। পাশাপাশি প্যাথলজি ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী দ্রুত রক্তের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। চিকিৎসক ও নার্সদের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত প্রসূতি ও নবজাতক উভয়কেই অলৌকিকভাবে বাঁচানো সম্ভব হয়।
চিকিৎসা কর্মীদের এই ত্যাগ ও মহানুভবতায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রসূতির স্বজনরা। রোগীর এক স্বজন আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, চিকিৎসকরা যে শুধু ওষুধ দিয়ে নয়, নিজেদের রক্ত দিয়েও আমাদের রোগীর প্রাণ বাঁচাবেন তা কল্পনাও করিনি।
এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসার জোয়ার বইছে। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসা পেশা যে কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং মানবসেবার সর্বোচ্চ মাধ্যম এ ঘটনা তারই উজ্জ্বল প্রমান। চিকিৎসাসেবার নানা নেতিবাচক খবরের মাঝে এমন ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগ সমাজে এক নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে।




