রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে মাদক নির্মূল ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক বিকাশ এবং বিদ্যালয়-অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের বরাট এলাকায় চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমির হলরুমে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম শেখ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় না,  শিক্ষার গুনগত নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, ঠিকমতো ক্লাস করছে কি না এবং পড়াশোনায় তার অগ্রগতি কেমন—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি সন্তানের আচরণ ও চলাফেরার ওপরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
মাদকাসক্তির বিষয়ে সতর্ক করে ইউএনও বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু-কিশোর বিভিন্নভাবে মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং অবসর সময়ে কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। শুরু থেকেই সন্তানকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে মাদকের ভয়াবহতা থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আচরণগত উন্নয়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের জ্ঞানও অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের দায়িত্বশীলভাবে খোঁজ রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কি না, সে বিষয়েও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি।
সমাবেশে চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, শিক্ষা অনুরাগী ও অভিভাবক তাওহীদ চৌধুরীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, মাদক ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম সমাবেশে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম। সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে

কালীগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় ওই তিন ব্যবসায়ীকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীদের এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কালীগঞ্জ পৌরসভার দড়িসোম এলাকায় ব্যবসায়ী রাজু আহমেদকে ৫ হাজার টাকা, চুন্নু মিয়াকে ৩ হাজার টাকা ও দক্ষিণ ভাদার্ত্তীর মো. রেজাউল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন হালদার বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা একটি বড় ধরনের অপরাধ। যেই সব ব্যবসায়ীরা এই রকম কাজ করবে তাদের অর্থদণ্ড ও সাজা প্রদান করা হবে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।