‎শ্যামনগরে দখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি খাস জমি ও খাল। তবুও প্রশাসন নিরব, নেই তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ

‎সাতক্ষীরা জেলার উপকূলবর্তী উপজেলা শ্যামনগর উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের চালিতাঘাটা গ্রামে শত শত একর খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে নিচ্ছে দখলদার চক্র।

‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চালিতাঘাটা সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এর আশেপাশের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ও খাল মাটি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। আবার কোথাও কোথাও ঘেরা বেড়া দিয়ে নিজেদের কব্জা করে রেখেছে।

‎চালিতাঘাটা সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার পাশ দিয়ে হয়ে গেছে একটি খাল। খোঁজখবর নিয়ে এম বিভিন্ন তথ্যসূত্রের মাধ্যমে জানা যায় খালটি এক সময় অনেক বড় ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে দখলদাররা মাটি ভরাট করে খালটিকে সংকীর্ণ করে ফেলেছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুম প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

‎স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাল্টি প্রায় ২০০ ফুটের মতো চওড়া হওয়ার কথা কিন্তু সেখানে রয়েছে ১০ থেকে ১৫ ফুট চওড়া। সেটি আবার চালিতাঘাটা রাস্তার ধারে এসে হয়ে গেছে ৩ থেকে ৫ ফুট। স্থানীয়দের ভাষায় এটি এখন আর খাল নেই জোলে পরিণত হয়েছে। বর্ষাকাল এলে পানি সরার আর কোন উপায় নেই। ফলে শত শত পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়ে।

‎অনুসন্ধানে নেমে দেখা যায়, কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ এই এলাকার খাস জমি ও খাল দখলের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখেনি প্রশাসনকে। ফলে এই প্রভাবশালী দখলদাররা দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে নানাভাবে হয়রানি শিকার হতে হয়, তাই কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না।

‎প্রশাসনিক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। তারা আসেন, দেখেন, চলে যান। পরে জানতে চাইলে বলেন তদন্ত করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিন্তু বাস্তবতায় মিলে না তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চালিতাঘাটা সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার একজন কর্মচারী বলেন, বর্ষাকালে তার বাড়ি সহ এই এলাকার প্রায় পাঁচশত পরিবার প্লাবিত হয়। যদি সরকারি খালের জমি দখলমুক্ত করে খালটি প্রশস্ত করে পানি নিষ্কাশন এর ব্যবস্থা করা হয় তাহলে বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত পরিবারসহ ফসলি জমির মালিকগণের  দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।

‎আমাদের অনুসন্ধানে বারবার উঠে এসেছে প্রভাবশালী একটি নাম, তিনি হলেন চালিতাঘাটা সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার আজীবন সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক। এসব ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি।

‎কে এই আবুবকর? কিভাবে তিনি হয়ে উঠলেন অত্র এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি? তার সাথে আরো কারা কারা জড়িত এই দখলের পিছনে? প্রশাসন

‎তাই জানাবো আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের পরের পর্বে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে

কালীগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় ওই তিন ব্যবসায়ীকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীদের এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কালীগঞ্জ পৌরসভার দড়িসোম এলাকায় ব্যবসায়ী রাজু আহমেদকে ৫ হাজার টাকা, চুন্নু মিয়াকে ৩ হাজার টাকা ও দক্ষিণ ভাদার্ত্তীর মো. রেজাউল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন হালদার বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা একটি বড় ধরনের অপরাধ। যেই সব ব্যবসায়ীরা এই রকম কাজ করবে তাদের অর্থদণ্ড ও সাজা প্রদান করা হবে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।