সংরক্ষিত নারী আসনে এলিজা জামানের মনোনয়ন বৈধ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দিন খান।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় এলিজা জামান একমাত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া, আপিল নিষ্পত্তি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।

১৯৬৯ সালে জন্ম নেওয়া এলিজা জামান বিএ ডিগ্রিধারী। তাঁর বাবা সরদার সুলতান মাহমুদ ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য, বৃহত্তর বরিশাল জেলার ভাইস চেয়ারম্যান এবং শিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্ব ও সমাজসেবার মাধ্যমে রাজনীতিতে পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।

তাঁর পরিচিতি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক এবং ২০০৪ সালে সমাজসেবায় ‘মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক’ লাভ করেন এলিজা জামান। নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পিরোজপুর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবং জুজখোলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। এ ছাড়া এতিমখানা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবনে ২০১৩ সালে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন বলে তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। একই তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে রাজনৈতিক মামলায় মোট ছয় মাস কারাভোগ করেন তিনি।

বর্তমানে এলিজা জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হলে পিরোজপুরের উন্নয়ন, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অধিকারসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন