পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ফরিদুল ইসলাম নামে এক ডিএসবি সদস্য। এ ঘটনায় তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এশিয়ান মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই স্থানে পাপরী রানী রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশু ট্রাক চাপায় নিহত হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাকটি আটক করে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালায়। এসময় কয়েকটি যানবাহনেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানায় কর্মরত তিনজন ডিএসবি সদস্য ঘটনাস্থলে যান। তাদের মধ্যে দুইজন মরদেহের কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেও ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম ট্রাকটি যেখানে আটক রাখা হয়েছিল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সড়ক অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা আরেকটি ট্রাক ভাঙচুরের চেষ্টা করলে ফরিদুল ইসলাম দূর থেকে একটি ছবি তোলেন এবং থানার ডিউটি অফিসারকে ফোনে পরিস্থিতি জানান। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ রায়ের ভাইয়ের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন যুবক তার ওপর চড়াও হয়। তারা তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসময় ফরিদুল ইসলাম নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানালেও তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আহত অবস্থায় ফরিদুল ইসলাম পুলিশের গাড়ির কাছে গেলে অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বপূর্ণ সাহা বলেন, রাত ১০টা ২০ মিনিটে ফরিদুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথাতেও আঘাত পাওয়া গেছে। তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলামের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।
মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




