দিনাজপুরের পার্বতীপুর পৌর শহরে ধর্মীয় সচেতনতা, মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। পৌর শহরের চারপাশের চারটি সড়কের পাশে স্থাপিত সীমানা নির্ধারণ পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে লেখা ছিল “খোদা হাফেজ”। মুসলিম বিশ্বাস ও আল্লাহর সিফতের সঙ্গে শব্দটির অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উপলব্ধি করে এক সচেতন নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে পৌর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আসছিলেন।
পৌর প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করলেও বিভিন্ন ব্যস্ততা ও কাজের চাপে দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে সাইনবোর্ডগুলোতে “খোদা হাফেজ” পরিবর্তন করে টাইলসের মাধ্যমে “আল্লাহ হাফেজ” স্থাপন করেন। পরে পৌর প্রশাসনও এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।
শুধু ধর্মীয় সচেতনতাই নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি রেখে চলেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। সুপেয় পানি পানের সুবিধার্থে হলদিবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেন তিনি। পাশাপাশি ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের কল্যাণে “মানবতার দেয়াল” বা কাপড়ের দেয়াল স্থাপন করে সমাজে মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তার এসব উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থাকলে সমাজ পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। ছোট ছোট ভালো কাজই সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রায় তিন দশক আগের একটি স্মৃতিচারণ করেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এক সভায় পার্বতীপুরের দিনাজপুর রেল গোলাই এলাকার অবহেলিত গণকবরের বিষয়টি তুলে ধরেন। সে সময়কার ইউএনও কল্লোল চক্রবর্তীর সহযোগিতায় দ্রুত সেখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে গড়ে ওঠে বৃহৎ গণকবর বেদি, যেখানে প্রতিবছর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সচেতন নাগরিক জানান, “আমি বিশ্বাস করি, সমাজের ভালো কাজের জন্য পরিচয় বড় নয়—কাজটাই বড়। যে যেখানে আছি, সেখান থেকেই যদি মানুষের কল্যাণে কিছু করতে পারি, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ছোট ছোট ইতিবাচক উদ্যোগ সমাজকে বদলে দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় সচেতনতা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসবই মানুষের জন্য, সমাজের জন্য। আমরা শুধু সমালোচনা না করে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হবে।”
সচেতন মহলের অভিমত, সমাজ উন্নয়ন, ইতিহাস সংরক্ষণ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে এ ধরনের ইতিবাচক, দায়িত্বশীল ও মানবিক উদ্যোগ আরও বাড়ুক—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।




