বহু বছর ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্লিপসহ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের ঘটনা চলে আসছে। ভালো শিক্ষক- অভিভাবকরা এই চুরি বুক পেতেও ঠেকাতে পারেনা। এজন্য কমিটির অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে দায়ী করছেন বেশিরভাগ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তাই কমিটি প্রথা বাতিলেরও দাবি ওঠে ঐক্যবদ্ধভাবে। তবুও বরাবরের মতো নতুন সরকার কমিটির হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা দিয়েই ফের নীতিমালা জারি করেছে। তবে এই নীতিমালায় এবার কওমি মাদরাসা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যুক্ত করেছে। এতেও দুর্নীতি কমবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।
গতকাল বুধবার প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও প্রাথমিক শিক্ষক-অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে দৈনিক আমাদের বার্তা। দীর্ঘ আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। তারা বলছেন, কমিটির হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না রাখার পরিপত্র জারি করলেই দুর্নীতি কমবে।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় প্রকল্প, ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক প্রাথমিক বরাদ্দসহ আরো কিছু প্রকল্প রয়েছে। এসব বরাদ্দের টাকা নয়ছয় হওয়ার খবর প্রায়শই পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আলামিন দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দের টাকা তোলা ও খরচের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষদের হাতে রাখা ভালো বলে মনে করি। তবে এই টাকার হিসাব সবাই কাছে উন্মুক্ত করতে হবে। আর ম্যানেজিং কমিটির হাতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দেখভালের ক্ষমতা রাখা ভালো। শিক্ষকরা ঠিকঠাক আসছে কিনা, শ্রেণি পাঠদান ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা- এসব বিষয়ের ক্ষমতা কমিটির হাতে থাকা ভালো বলে মনে করি।
এদিকে গত সোমবার জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং কমিটির দায়িত্ব-কর্তব্য বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইতোপূর্বে জারিকৃত সব প্রজ্ঞাপন/আদেশ বাতিল করা হলো।
নতুন নীতিমালায় কমিটি গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে- কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত, চলতি দায়িত্ব)।
কমিটির সদস্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে মনোনীত একজন বিদ্যোৎসাহী মহিলা অভিভাবক (ন্যূনতম এসএসসি পাস), সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে মনোনীত একজন বিদ্যোৎসাহী পুরুষ অভিভাবক (ন্যূনতম এসএসসি পাস)। বিদ্যালয়ের একজন জমিদাতা/জমিদাতার উত্তরাধিকারী (যদি থাকেন)।
সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী যে কোনো সরকারি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমপিওভুক্ত (এমপিও) মাদরাসা/ কওমি মাদরাসার একজন শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে নির্বাচিত একজন শিক্ষক প্রতিনিধি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে নির্বাচিত দু’জন মহিলা অভিভাবক। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে নির্বাচিত দু’জন পুরুষ অভিভাবক। ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য, পৌর এলাকার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক, সরকারি মাধ্যমিক, এমপিওভুক্ত (এমপিও) মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা/ কওমি মাদরাসার শিক্ষক/ সরকারি কর্মকর্তা/ কর্মচারী।
কমিটি গঠন পদ্ধতি: কমিটির সদস্য-সংখ্যা সভাপতিসহ মোট ১২ জন হবে। সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি এবং মাধ্যমিক/ মাদরাসা থেকে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ব্যতিরেকে অন্য সদস্যদের থেকে একজন সভাপতি এবং একজন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন। তবে শর্ত, সভাপতিকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী পাওয়া না গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মনোনয়ন প্রদান করবেন। পদাধিকারবলে প্রধান/ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।




