সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের গুরুত্বারোপ করে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সাতক্ষীরা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশ-এর নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন সম্পন্ন হয়। সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরশক্তি সহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং অর্ধেকের বেশি এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ এই রুটটির ওপর নির্ভরশীল। দক্ষিণ অঞ্চলে ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাব প্রকট হতে শুরু করেছে, যার ফলে ১০টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং কৃষিতে সেচব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট থেকে উত্তরণে আমদানিকৃত এলএনজি বা তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সৌরসম্পদ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ফিলিপাইন ও পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ বিপ্লবের উদাহরণ টেনে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশেও কয়েক কোটি পরিবারের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে যা কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগান দিতে সক্ষম।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সুপারিশমালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতির ওপর থেকে সব ধরণের কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, সরকারি-বেসরকারি ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা এবং কৃষিখাতে সৌরচালিত সেচ পাম্পের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক যান চালুর পাশাপাশি এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক ও পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব মাধব চন্দ্র দত্তের উপস্থাপনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সভাপতি জনাব আব্দুল হামিদসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি নীতি গ্রহণ না করলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হবে। তাই জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।




