
নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ফজলুর রহিম কাজলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর বড়কাশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিরামপুর গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহারের পারিবারিক কবরস্থানের একটি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফজলুর রহিম কাজলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামে। তিনি মৃত জবান আলীর ছেলে এবং দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর থেকে কাজল নিখোঁজ ছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। নিখোঁজ হওয়ার পর অপরিচিত একটি ফোন নম্বর থেকে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
শুক্রবার সকালে বিরামপুর গ্রামের ওই কবরস্থানের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কাজলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। নিখোঁজ হওয়ার পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।




