তাহিরপুর হাওরের বোরো ধানের ওপর কৃষকেরা যেমনি নির্ভরশীল, তেমনি ঘরের গরুর পুরো এক বছরের খাবারের ব্যবস্থা হয় এই ধানের খড় থেকে। কিন্তু এবার ফসল গেছে, সেই সঙ্গে গেছে গো-খাদ্যও। হাওরপারের মানুষ এখন বিপাকে পড়েছেন গবাদিপশু নিয়ে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। মানুষজন ‘পানির’ ধরে বিক্রির করছে গরু-ছাগল।
ছিলাইন তাহিরপুর এর গ্রামের রুবেল মিয়া বলেন,আমার প্রায় ১২টি গরু রয়েছে। আমাদের এলাকায় একটা ফসল করে থাকি,এ বৈশাখ মাসেই গরুর জন্য সারা বছরের খড় জমিয়ে রাখি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে খড় শুকাতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে গবাদিপশুর খাবার নিয়ে বড় সংকটে পড়তে হবে।
ভাটি
তাহিরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন গবাদিপশুর অন্যতম খাদ্য ধানের খড় কিন্তু বৃষ্টির কারণে খড় শুকাতে না পারায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গোবিন্দ শ্রী কৃষক সেলিম আখন্জি
বলেন,
পাঁচটির গরু মধ্যে চারটি তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। বাড়িতে আছে একটি ষাঁড়। এটি বিক্রির চিন্তাভাবনা করছি। তবে
তার ওপর দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট এই দুই কারণে গরু বিক্রি হচ্ছে। দিন যত যাবে গো-খাদ্যের সংকট আরও প্রকট হবে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক হবিবুর রহমান বলেন, খড়ের প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনছি, প্রতি কিয়ার খড়১৫০০ -১২০০ টাকা দাম সেখান থেকে ট্রলি দিয়ে আনা হচ্ছে মাড়া খলা শুকানো হবে এর পরে বাড়িতে খড় নিয়ে যাওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাণীর সম্পদ (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোঃ হারুন রশিদ বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যা শঙ্কায় কৃষকগণ দ্রুত ধান কাটছেন। তাই খড় সংরক্ষণের ব্যাপারে কম ভাবছেন বা ধান কে অধিক গুরুত্ব দিয়ে খড় ফেলে আসছেন, এটা নিয়ে আমরাও শঙ্কিত। গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য ঘাস, খড় বা আঁশ জাতীয় খাদ্য। ভূষি, ধানের কুড়া, খৈল ইত্যাদি বা রেডি ফিড দানাদার জাতীয় খাদ্য। দানাদার জাতীয় খাদ্য গরুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করলেও আঁশ জাতীয় খাদ্যই তাদের মূল খাদ্য।




