১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর, পাকুন্দিয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি, চত্বর পরিদর্শনে মৎস্যমন্ত্রী

আগামী ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এই সফরকে যথাযোগ্য মর্যাদায় সফল ও উৎসবমুখর করে তোলার লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে। এই সফরের অংশ হিসেবে আজ শনিবার (৮ অগাস্ট ) সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী থানাঘাট চত্বর পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ​সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা থানাঘাট চত্বরে এসে পৌঁছালে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জনসভার সম্ভাব্য স্থান এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গৃহীত সাজসজ্জার সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,উপজেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
থানাঘাট চত্বর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর আমাদের জন্য এক পরম পাওয়া। এই সফরকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখছি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নির্বিঘ্ন ও স্মরণীয় করে রাখতে দলীয় শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করতে হবে।”
​কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “পাকুন্দিয়ার মাটি ও মানুষ প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। আমরা থানাঘাট চত্বরকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য একটি উপযুক্ত ও সুশৃঙ্খল স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছি। আশা করছি, ১৮ আগস্ট এটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রতিটি মোড়, রাস্তাঘাট এবং প্রধান প্রধান স্থাপনাগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে। ফেস্টুন, ব্যানার ও তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারেক রহমানের এই সফর শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং কিশোরগঞ্জের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা আশাবাদী।
​জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল জানান, “জনসাধারণের যাতায়াত সহজতর করা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আমরা সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।”
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ” প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে “।
​মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পরিদর্শনের সময় কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল মৎস্য উৎপাদনে দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। সরকারের লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই খাতের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও খামারিদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা ও প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে।”
​উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে জেলায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া অঞ্চলকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ​আজকের পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করার লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিদর্শনকালে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর আগমনে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
​সফর প্রস্তুতির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় হাইকমান্ড সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ১৮ আগস্টের অপেক্ষায় এখন পুরো কিশোরগঞ্জ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আলফাডাঙ্গায় ৮০০ ফুট কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগ: দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের জাটিগ্রাম দরুনা মন্দির থেকে দক্ষিণপাড়া