৬৯০ বন্দি এখনো পলাতক, ১৬৬ জনের তথ্য ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ কারা কর্তৃপক্ষ

২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে এখনো ৬৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের পরিচয়সংক্রান্ত কোনো তথ্য কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই। এসব বন্দি নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন। কারাগারটির নথিপত্র ও সার্ভার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের তথ্য সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া তালিকাভুক্ত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৬ জনকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো তিনজন পলাতক রয়েছেন।

রাজধানীর বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরে সমসাময়িক ঘটনা ও কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এসব তথ্য জানান।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালে ২২৪৭ বন্দি কারাগার ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিল। এরমধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক। নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল ৮২৬ বন্দি। এরমধ্যে নরসিংদী কারাগারের ১৬৬ বন্দির ডাটা আমরা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে নয়জন জঙ্গি বন্দি পালিয়েছিল। তারমধ্যে ৬ জন এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি তিনজন পলাতক।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ধারণক্ষমতার দিগুণেরও অধিক বন্দি কারাগারে রয়েছে। যে কারণে আবাসন একটা বড় সমস্যা। বর্তমান যে অবস্থা তাতে জঙ্গিদের আলাদা করে রাখা যাচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্য ছিল শুধু কারাগার পরিচালনা করা নয়; বরং এমন একটি আধুনিক সংশোধনমূলক সেবা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা, যেখানে নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা ও কল্যাণ সমান গুরুত্ব পাবে।

গত ২৪ জুন থেকে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারকে ‘ক্যাশলেস’ কারাগার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে কারাগারগুলোতে আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কারা প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল করতে সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনের উদ্যোগের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, এরই মধ্যে এক হাজার ৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে। আরও এক হাজার ৫০০টি পদের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক, মেধাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে অনিয়ম ও দালালচক্রের সুযোগ কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে ভুয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কারা বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতাকেই প্রধান বিবেচনা করা হবে বলে মন্তব্য করেন কারা মহাপরিদর্শক।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমানো এবং কারাগারের ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কারাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও আটটি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে লালমনিরহাটে পূবালী ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ ক্যাম্পেইন ও সমাবেশ

​ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিতকরণ এবং সার্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ (BANGLA QR) প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লালমনিরহাটে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি শহরের সেনা মৈত্রী মার্কেটে পূবালী ব্যাংক পিএলসি লালমনিরহাট শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।   ​অনুষ্ঠানে ক্যাশলেস ব্যবস্থার সুফল ও ব্যাংকের আধুনিক সেবা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। পূবালী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক মধু বাবু রায়ের সভাপতিত্বে এবং শাখাটির অপারেশন ম্যানেজার আবু আতিক ইমতিয়াজের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক মধু বাবু রায় নিজে। ​এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: ​মোকছেদুর রহমান: সভাপতি, সম্মিলিত গোশালা রোড ব্যবসায়ী সমিতি ​শেখ শামীম আহমেদ: পরিচালক, লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ​মাজেদুল ইসলাম: প্রেসিডেন্ট, লালমনিরহাট রোটারি ক্লাব।   ​প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাখা ব্যবস্থাপক মধু বাবু রায় বলেন, “নগদ টাকার নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ ও দ্রুত লেনদেন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ এক QR’ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পূবালী ব্যাংক গ্রাহকদের যুগোপযোগী সেবা দিতে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।”