সিলেটের সীমান্তঘেঁষা জাফলং এলাকায় নীরবে বিস্তার লাভ করছে একটি সুসংগঠিত চোরাচালান নেটওয়ার্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বনাঞ্চলকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে একাধিক বিকল্প রুট, যার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে অবৈধ পণ্য পারাপার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব রুট এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও এড়িয়ে যায়। সম্প্রতি পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ও শিশু মাথা ও কাঁধে ভারী বোঝা বহন করে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করছে। যদিও ছবিটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এটি সীমান্তবর্তী চোরাচালান কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, দরিদ্র পরিবারগুলোকে টার্গেট করে চোরাচালান চক্র নারী ও শিশুদের পণ্য বহনের কাজে ব্যবহার করছে। অল্প টাকার বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে যুক্ত হওয়ায় তারা একদিকে শারীরিক ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এখন দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে চোরাচালান কার্যক্রম চলছে। রাত নামলে এর মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পাহাড়ি পথ ও স্থানীয় গাইডের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।
চোরাচালান হওয়া পণ্যের মধ্যে ভারতীয় ভোগ্যপণ্য, মসলা, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য থাকার কথা জানা গেলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা বলেন, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যার ফলে চক্রটি সহজেই রুট পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল অভিযান পরিচালনা করে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত গোয়েন্দা তৎপরতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা।
চোরাচালানের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে নজরদারি জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জাফলং তার পর্যটন সম্ভাবনার চেয়ে চোরাচালানের জন্যই বেশি পরিচিত হয়ে উঠবে।




