বৃহস্পতিবার,২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ দিনেও সন্ধান নেই গৃহবধূ ও শিশুর: বাবার আকুতি—“আমার মেয়ে জীবিত উদ্ধার চাই”

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রশিদা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তান গত ১ এপ্রিল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের ২৩ দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
নিখোঁজ রশিদার বাবা মো. আব্দুল করিম জানান, তিনি নাতির জন্য বিস্কুট নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ওওদেখেন, মেয়ে ও নাতি দুজনই বাড়িতে নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ৮ এপ্রিল কুমারখালী থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “এখন ২৩ দিন হয়ে গেল, কিন্তু আমার মেয়ে আর নাতির কোনো খোঁজ নেই। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মেয়েকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানাই।”
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিমের মেয়ে রশিদা খাতুনের বিয়ে হয় তারাপুর মোড় এলাকার মৃত মহরমের ছেলে রেজাউল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ির পক্ষ থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করে আসছিলেন রশিদা।
রশিদার বড় বোন অভিযোগ করে বলেন,
“আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করা হতো। তারপরও সে সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার টিকিয়ে রেখেছিল। হঠাৎ করে এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রশিদার ভাসুর সোদ্দিন শেখ দাবি করেন,“রশিদা বোনের বাড়িতে পিঁয়াজ কাটার কথা বের হয়েছিল এবং গাড়ি ভাড়া বাবদ ৫০০ টাকাও নিয়ে গিয়েছিল। এরপর আর ফেরেনি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, রশিদা স্বভাব-চরিত্রে সহজ-সরল ছিলেন। হঠাৎ কোনো কিছু না জানিয়ে এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন,
“মা ও শিশুসন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তাদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও মা ও শিশুর কোনো সন্ধান না মেলায় স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি জানানো ও মা-শিশুকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন