নবাবগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, সেবা পেতে ভোগান্তি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলো যেন ঘুষ আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব অফিসে দালালদের সহায়তা ছাড়া একটি ফাইল নড়া দূরের কথা, কোনো কাজই হয় না। প্রতিটি অফিসেই ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের মূল্য তালিকা সংবলিত সাইনবোর্ড উল্লেখ আছে। তবে সেটা শুধুই লোক দেখানো। দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে শতগুন বেশি টাকা দিয়ে প্রতিটি কাজ করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতগুণ বেশি টাকা দিয়েও কেউ কেউ হয়রানির শিকার হন দালালদের দ্বারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলোতে দেখা যায়, প্রতিটি অফিসেই দুই থেকে তিনজন দিব্যি কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। তারা সরকারি কর্মচারীদের আগে প্রতিদিন সকালে হাজির হন উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।  তাদের কেউ আছেন কম্পিউটারের দায়িত্বে, কেউ গোপন নথির দায়িত্বে। তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তারা কেউ এসব অফিসের নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী নয়। জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা মূলত দালালি করেন। দালালির দ্বারাই তাদের আয়-রোজগার।
স্থানীয় ভূমি মালিকরা জানান, জমির বৈধ মালিক যেই হোক, দালালদের চাহিদা মতো টাকা এবং দাগ খতিয়ান নম্বর দিলেই তা হয়ে যায় অন্যের। আবার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ঘুষে হেরফের হলে প্রকৃত জমির মালিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব দালাল সরকারি কর্মচারীর মতো বিভিন্ন রেকর্ডপত্র নাড়াচাড়া করে। এদের বিরুদ্ধে কথা বললে জমি নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়।
 এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি না করেও দালাল জাহিদুল ইসলাম গোপন নথিপত্রের কাজ করেন। সেই সুযোগে জাহিদুল ইসলামকে ৪ শতক জমি খারিজের জন্য ২৮ হাজার টাকা দিতে হয়। এভাবে আমরা গরিব মানুষ যদি ওদের কাছে জিম্মি হয়ে যাই তাহলে যাবো কোথায়।
দালাল জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। স্যারকে মাঝে মাঝে কিছু কাগজপত্র এগিয়ে দেন। এবং অনলাইনে খারিজের আবেদন করতে সহায়তা করেন এজন্য ৫০০ টাকা নেন।
৪ শতক জমির খারিজে ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, অনেক সময় সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যাশার কারণেও বাড়তি ব্যয় হয় ও এসিল্যান্ড অফিসে গেলে তাদেরও কিছু চাহিদা থাকে সেটাও দিতে হয়।
ভাদুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুখেশ চন্দ্র রায় বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খারিজ করতে প্রায় ১ হাজার ১৭০ টাকা খরচ হয়, এর বাইরে কোনো নির্ধারিত ফি নেই। ৪ শতক জমি খারিজ করতে ২৮ হাজার টাকার অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই।
অন্যদিকে বিনোদনগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার দালাল সঞ্জিত প্রসঙ্গে বলেন, তিনি অফিসের কোনো স্টাফ নন। সঞ্জিত একজন বাইরের ব্যক্তি এবং তাকে নিয়ে কথা বলতে গেলে ঝামেলায় পড়বেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ভিডিও রেকর্ড করার প্রয়োজন নেই  এমনি বলতেছি, সন্জিৎ বাহিরের লোক তবে কিছু ক্ষেত্রে কাজের চাপ ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সঞ্জিতকে কাজে সহায়তার জন্য ডাকা হয়। এছাড়া অনেক সেবাগ্রহীতা খারিজ সংক্রান্ত কাজের জন্য সঞ্জিতের সহায়তা নেন বলেও তিনি জানান।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ উল মাহমুদ বলেন, এবিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পায়নি তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন