চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকাকে হ’ত্যা করে লা’শ গুমের চেষ্টা: মূল হো’তাসহ গ্রে’ফ’তার ৪, আদালতে স্বীকারোক্তি

গত ইং ১৯/০৫/২০২৬ তারিখ ভোর অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ সংবাদের প্রেক্ষিতে এসআই/মোঃ বেল্লাল হোসেন অত্র থানাধীন নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া গ্রামস্থ জনৈক মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), স্বামী-মোঃ রুবেল হোসেন এর বসতবাড়ীতে গিয়ে একজন মহিলার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মৃত মরিয়ম বেগম তার মা সনাক্ত করে। মৃত দেহের শরীরে একাধিক গুরুতর জখম থাকায় এসআই/মোঃ বেল্লাল হোসেন মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরন করে। অজ্ঞাতনামা কে বা কাহারা তার মা ভিকটিম মরিয়ম বেগমকে হত্যার করেছে মর্মে বাদী থানায় এজাহার দায়ের করলে সূত্রে বর্ণিত মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা-এসআই/মোঃ বেল্লাল হোসেন। মামলাটি তদন্তাধীন। মাননীয় পুলিশ সুপার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহোদয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নবাবগঞ্জ
সার্কেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহোদয়, অফিসার ইনচার্জ, সদর মডেল থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্যারের দিক নির্দেশনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত একদল চৌকস অফিসারের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা-এসআই/মোঃ বেল্লাল হোসেন ঘটনার সাথে জড়িত আসামী ১। মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), স্বামী-মোঃ রুবেল হোসেন, ২। মোঃ রুবেল হোসেন (৩৫), পিতা-মোঃ আনোয়ার হোসেন, ৩। মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত আলহাজ্ব রইস উদ্দিন, সর্বসাং-নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া, ৪। শ্রী দিপক সাহা (৩৫), পিতা-ছবি সাহা, সাং-রাজারামপুর মাস্টারপাড়া, সর্বথানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-দের নামোশংকরবাটি এলাকা ও গোমস্তাপুর থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি-কে জিজ্ঞাবাদে জানা যায় ভিকটিম মরিয়ম বেগম তার গৃহ শিক্ষিকা। ভিকটিম মরিয়ম বেগম আসামী মোঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি এর মেয়েকে প্রায় ০৫ বছর যাবৎ পড়ালেখা করায়। গত ইং ১৮/০৫/২০২৬ তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম মরিয়ম বেগম আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি এর মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য তার বাসায় আসে। প্রাইভেট পড়ানোর এক পর্যায়ে মৃত মরিয়ম বেগম আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমিকে বলে আমার ছেলের ল্যাপটপ কিনতে হবে তুমি কিছু টাকা ধার দেও। আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি বলে আমার কাছে কোন টাকা নাই। তখন ভিকটিম মরিয়ম বলে তাহলে আমার কানের দুল বিক্রি করে টাকা দেও। আসামী সুমাইয়া আক্তার সুমি ভিকটিম মরিয়ম বেগম এর এক জোড়া কানের দুল নিয়ে ৪নং আসামী শ্রী দিপক সাহা এর কাছে ১২,০০০/-টাকায় বিক্রয় করে। আসামী সুমাইয়া আক্তার সুমি উক্ত টাকা থেকে তার ব্যক্তিগত কাজে ৫০০০/-টাকা খরচ করে। ভিকটিম মরিয়ম বেগম একই তারিখ বিকাল অনুমান ১৫.৩০ ঘটিকার সময় আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি এর বাড়ীতে আসে এবং তার নিকট কানের দুল বিক্রয়ের টাকা চায়। আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি মৃত মরিয়ম বেগমকে টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি ভিকটিম মরিয়ম বেগম-কে ঘরের ভিতরে থাকা কাঠের বাটাম দ্বারা আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ভিকটিম মরিয়ম বেগম চিৎকার করলে আসামী সুমাইয়া আক্তার সুমি ভিকটিম মরিয়ম বেগম এর মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার করে। পরবর্তীতে আসামী সুমাইয়া আক্তার সুমি খাটের উপর থাকা রেকসিন দ্বারা মরিয়ম বেগম মৃতদেহ পেঁচিয়ে ঘাটের নিচে রেখে দেয়। পরে মৃতদেহ খাটের নিচ থেকে বের করে দুইটি চটের বস্তাতে ঢুকে বস্তা বন্দি করে পার্শ্বে নাকড়ি রাখার ঘরের পার্শ্বে পুরাতন কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে। আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি রাত্রিবেলা ঘটনাটি তার স্বামী রুবেল ও তার পিতা-আনোয়ার হোসেন-কে জানায়। এ সংক্রান্তে আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি ও শ্রী দিপক সাহা জনাব মোঃ আশরাফুল ইসলাম বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহোদয়ের নিকট ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। আসামী মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি ভিকটিম মরিয়ম বেগম-কে হত্যা করে লাশ গুম করেছে মর্মে স্বীকার করে।
আসামীর নাম ও ঠিকানা-
১। মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), স্বামী-মোঃ রুবেল হোসেন, ২। মোঃ রুবেল হোসেন (৩৫), পিতা-মোঃ আনোয়ার হোসেন, ৩। মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত আলহাজ্ব রইস উদ্দিন, সর্বসাং-নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া, ৪। শ্রী দিপক সাহা (৩৫), পিতা-ছবি সাহা, সাং-রাজারামপুর মাস্টারপাড়া, সর্বথানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উদ্ধারকৃত আলামত
১। হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের বাটাম, ২। এক জোড়া কানের দুল ও ৩। নগদ ৭,৫০০/-টাকা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন