
জনসাধারণের জন্য সরকারিভাবে সরবরাহ করা বিপুল পরিমাণ ওষুধ দীর্ঘদিন মজুদ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে এসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো ট্রাকভর্তি করে যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয় জনতার হাতে একটি ট্রাক আটক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার জনগণের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার জন্য ওষুধ সরবরাহ করলেও ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব ওষুধ যথাসময়ে রোগীদের মাঝে বিতরণ না করে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এরই মধ্যে ওষুধগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, মজুদকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো একটি ট্রাকে করে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ট্রাকটি আটক করেন। পরে ট্রাকে থাকা বিপুল পরিমাণ ওষুধের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও বিতরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সরকারি ওষুধ কেন রোগীদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ করা হয়নি এবং কীভাবে বিপুল পরিমাণ ওষুধের মেয়াদ শেষ হলো—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সরকারি সম্পদের এমন অপচয় হয়ে থাকলে দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন সরকারি ওষুধ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।




