
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে হত্যা মামলার দায় এড়াতে অভিযুক্তরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করে প্রতিপক্ষ ও স্থানীয়দের হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহ দ্বীপ।
সোমবার স্থানীয়ভাবে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে শাহ দ্বীপ এসব অভিযোগ করেন।
দিরাই থানার এস আই শাহ আলম এর সামনে তাদের ঘরের ধান ও মালামাল নিজ দায়িত্বে তারা অন্য জায়গায় নিয়ে রেখেছে, তারপরও তারা একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট ষড়যন্ত্র করে আমাদের উপর মামলা দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, একটি হত্যা মামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা নিজেদের রক্ষা করতে এবং আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে পরিকল্পিতভাবে নতুন করে পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শাহ দ্বীপ আরও বলেন,
“হত্যা মামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা মামলা থেকে রেহাই পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উক্ত হত্যার মামলার ৬৯ নং আসামী সাদেক মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম কে লুটপাট ও ভাংচুরের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান কেউ কারো কবরের জবাব দিবেনা এগুলো আমার স্বামীর গোষ্ঠীর সবাই মিলে ভাংচুর ও মালামাল লুট করে মেম্বার শাহ দ্বীপ এর উপর চাপিয়ে দিচ্ছে কথাগুলোর ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে, এবং লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগ কারী মসকুর আলীর আপন ভাইয়েও লুটপাট ভাংচুরের বিষয় নিজেদের সাজানো বলে বক্তব্য প্রদান করেন।
শাহ দ্বীপ এর দাবি বিগত ২১/০৫/২৬ তারিখে সাবেক মহিলা ইউ/পি সদস্য রেনুকা বেগম লুটপাট ও ভাংচুর দাবি করে দিরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে কিন্তু পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা না পেলে এ খবর পেয়ে আবার ও নিজেদের করা লুটপাট ও ভাংচুর বাড়িয়ে দেখিয়ে ২৪/৮/২৬ তারিখে কোর্ট নতুন করে মহসিন নামে একজন বাদী হয়ে মামলা করে।
আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়,বেশ কয়েকবার ইউ/পি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ শাহ দ্বীপ এর উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়,
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ইউপি সদস্য শাহ দ্বীপ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলীনগর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
এই বিষয়ে দিরাই অফিসার ইনচার্জ ওসি আমিনুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কোর্টে মামলা হয়েছে এখনো দিরাই থানায় আসেনি, আসলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হত্যা মামলার আসামীরা হচ্ছেন:
১/ রফিকুল ইসলাম ২/ আমিন মিয়া ৩/ মহসিন মিয়া ৪/ সফিজুল ৫/ শাহিরান মিয়া ৬/ মনির মিয়া ৭/হাবিজ নুর ৮/সপন ৯/ আবুল কাশেম ১০/ পাবেল ১১/ ছমক ১২/ কেজুর নুর ১৩/ নুর হুসেন ১৪/ আলামিন ১৫/ জিয়ার রহমান ১৬/ মেহেরুল ১৭/ রেজুয়ান ১৮/ শাহাজান ১৯/ জামাল ২০/ হাসিদ নুর ২১/ সাইদুর ২২/ আজিজ ২৩/ সবুজ ২৪/ আনার আলী ২৫/ মজর আলী ২৬/ সেলিম ২৭/ আল্লাদ ২৮/ তাজ মিয়া ২৯/ আইবুল ৩০/ গোলাম তোহা ৩১/ মুহিত ৩২/ নুরুল আমীন ৩৩/ গোলাম ইলিয়াস ৩৪/ মুশাহিদ





