ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর খোমেইনে অবস্থিত হাফেজ খোমেইনি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলার ফলে স্কুল এবং এর আশপাশের কিছু ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত স্কুল সংলগ্ন আবাসিক এলাকাতেও বিধ্বস্ত অবস্থা সৃষ্টি করেছে। স্কুল এবং আশেপাশের বসতবাড়িতে মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সাহায্য ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।
এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭০ শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ক্রমবর্ধমানভাবে উঠছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই খোমেইনের হাফেজ খোমেইনি স্কুলে নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর স্কুল এবং আশেপাশের এলাকায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম তৎক্ষণাৎ শুরু করা হয়েছে। আহতদের কাছে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা বলেছেন, শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে এ ধরনের ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করতে হবে।
খোমেইনের এই হামলার পর স্থানীয় অভিভাবক ও কমিউনিটি নেতারা এই ধরনের আঘাতকে “মানবতাবিরোধী” উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, শিশুদের ওপর সরাসরি আঘাত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও শিশু সংরক্ষণ সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা মার্কিন প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছে, এ ধরনের হামলার জন্য দায়িত্ব স্বীকার করতে এবং ভবিষ্যতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও ও ছবিসহ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে স্কুল ও আশেপাশের এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
অবশেষে, খোমেইনের হাফেজ খোমেইনি স্কুলে হামলার ঘটনায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।




